বাংলা দরখাস্ত লেখার নিয়ম

0

দরখাস্ত লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে পারবেন এই আর্টিকেল থেকে।প্রায় সময় এই আমাদের দরখাস্ত লিখতে হয়।

দরখাস্ত শব্দটি আমাদের বহুল পরিচিত একটি শব্দ। দরখাস্ত এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আমাদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রয়োজন হয়ে থাকে। জন্মনিবন্ধন তথা জাতীয় প্ররিচয়পত্র থেকে শুরু করে মৃত্যু সনদ পর্যন্ত এই দরখাস্ত বা আবেদন পত্র প্রয়োজন। কখনো কখনো প্রতিষ্ঠানের ফরম বা ফরম্যাট দেয়া থাকে আবার কখনো সম্পূর্ণ হাতে বা কম্পিউটারে লেখা হয়।

আমাদের বিভিন্ন সময় দরখাস্ত লিখতে হয় স্কুল-মাদ্রাসার জন্য, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় জন্য অথবা প্রতিষ্ঠানের জন্য। আজ আমরা এই বিষয়গুলো নিয়েই বিস্তারিত জানবো । চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

দরখাস্ত বা আবেদনপত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল যা কোন ধরনের অনুমতি পাওয়ার জন্য জমা দেওয়া হয়। এই দলিলে ব্যক্তিগত তথ্য, অনুরোধকৃত কাজের বিবরণ, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং যে সমস্ত প্রমাণপত্র প্রয়োজন তা প্রদান করতে হয়। বিভিন্ন প্রকারের অনুরোধ করা হয়, যেমন নিয়োগ বা চাকরি আবেদন, শিক্ষার্থীর আবেদন, ঋণ আবেদন, ট্রেড লাইসেন্স আবেদন, জমির রেকর্ড আবেদন, পাসপোর্ট আবেদন, আইনি জটিলতা ইত্যাদি। এই আবেদনপত্র সরকারী বা বেসরকারী সংস্থার উপর নির্ভর করে লেখা হয়।

সহজ কথায়, দরখাস্ত বা আবেদনপত্র হল একটি লিখিত অনুমতি পত্র । যা কোন প্রতিষ্ঠান প্রধান কে অনুরোধ করে লেখা হয়। এটি কম্পিউটার অথবা হাতের লেখা হতে পারে।

দরখাস্ত লিখতে যে বিষয় গুলোর দিকে লক্ষ রাখা উচিত

  • মারজিনঃ প্রথমে, পৃষ্ঠায় দৃশ্যমান না হয় এমন একটি মার্জিন লাইন কল্পনা করতে হবে উপর থেকে নিচের দিকে সোজা এবং বাঁ দিক থেকে ডানে এবং অবশ্যই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এই লাইনকেই কেন্দ্র করে সোজা লাইন বরাবর আবেদন পত্র লিখতে হবে।
  • আবেদনের তারিখঃ যে দিন দরখাস্ত লেখা হবে সেই তারিখ। মার্জিন বরাবর।
  • প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদবীঃ এরপর  “বরাবর ”কথাটি লিখে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অথবা যার কাছে অনুরোধ করবেন তার পদবী উল্লেখ করুন।
  • প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানাঃ এবার আপনি যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা শিক্ষারত আছেন সেই প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ নাম ও ঠিকানা নির্ভুল ভাবে লিখুন।
  • প্রাথমিক তথ্যঃ এখানে এক কথায় আপনার সমস্যার বিষয় উল্লেখ করুন। খুব সংক্ষিপ্ত এবং অর্থবোধক বাক্য ব্যাবহার করুন।
  • দরখাস্তের বিষয়বস্তুঃ একটি সম্মান সূচক সম্ভাষণ (জনাব/জনাবা, মহোদয় মহোদয়া ) ব্যবহার করে আপনার সমস্যর বিস্তারিত, সহজ এবং বিস্তারিত বিবরণ উপস্থাপন করুন । এখানে অবশ্যই আপনি কেন দরখাস্ত লিখছেন তা উল্লেখ করবেন।
  • অনুরোধঃ এ পর্যায়  “বিনীত নিবেদন এই যে,” এই কথা টি লিখে আমরা ছুটি মঞ্জুর করার জন্য অনুরোধ করবো। আপনার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা লেখার পর নিচে “বিনীত/নিবেদক” কথাটি লিখতে হয়।
  • সংবেদনশীলতাঃ এটি একটি ভীষন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। সুতরাং অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা কোনভাবেই করা যাবে না।
  • আবেদনকারীর তথ্যঃ অতঃপর আপনার পরিচিতি তথ্য দিয়ে শেষ করুন।
  • প্রেরনঃ এখন আপনার আবেদনপত্রটি একটি সুন্দর খামের মধ্যে প্রাপকের নিকট পাঠানোর উপযুক্ত।

এগুলো হল আবেদন পত্র লেখার খুব সাধারন কিছু নিয়ম।দরখাস্ত বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে যেমন, কোন কাজে নিয়োগ পেতে চাইলে, কোন দেশের ভিসা প্রয়োজন হলে, যখন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের লোন দরকার হয়, সরকারি দফতরে কোন কাজ করার জন্য দরখাস্ত দিতে হয়। আবার আমরা অনেক দরখাস্ত কে আমরা রেজিস্ট্রেশন নামেও জেনে থাকি। এখন আমাদের কার্যক্রম  অধিকাংশই অনলাইন ভিত্তিক সেখানেও  কোন সেবা বা পণ্যের জন্য আবেদন দরখাস্ত জমা দিতে হয় বা রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। আমাদের এই পেজে আশা করি সকল ধরনের দরখাস্তের সমাধান পাবেন ইনশাআল্লাহ্‌। এখানে সহজ এবং সাধারন দরখাস্ত তুলে ধরা হয়েছে।

কি কি কারনে দরখাস্ত বাতিল হতে পারে| দরখাস্ত লেখার নিয়ম

প্রতিষ্ঠান বিশেষ আরো কিছু নিয়মের কারনে অনেক সময় দরখাস্ত বাতিল হতে পারে। তা হলঃ-

  1.       অবশ্যই সঠিক তথ্য দিতে হবে।
  2.       প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট কোন ফরম বা ফরম্যাট থাকলে অনুসরণ করতে হবে।
  3.       নির্দিষ্ট জায়গায় স্বাক্ষর দিতে হবে।
  4.       কর্তৃপক্ষের নির্দেশমত ছবি দিতে হবে। (যদি প্রযোজ্য হয়)
  5.       প্রমাণ পত্রাদি চাইলে তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

আপনাদের  আরো সুবিধার্থে নিচে একটি সচিত্র আবেদন পত্র তুলে ধরা হলঃ-

দরখাস্ত লেখার নিয়ম | স্কুলে ভর্তির জন্য আবেদন পত্র

তারিখ: ০৯/০৪/২০২৩

বরাবর

অধ্যক্ষ

বিজয়নগর পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ

গাজীপুর, ঢাকা।

বিষয়: স্কুলে ভর্তির জন্য আবেদন।

জনাব,

যথাবিহিত সম্মান প্রদর্শনপূর্বক বিনিত নিবেদন এই যে, আমি রাজশাহী কুলাউড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্র। আমার বাবা একজন সরকারি চাকুরীজীবি। সম্প্রতি আমার বাবার কর্মস্থল রাজশাহী সদর থেকে ঢাকায় বদলি হয়েছে। সেই সুবাদে আমাকেও পরিবারের সাথে ঢাকায় থাকতে হচ্ছে। তাই আমার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ঢাকার কোন বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন।

অতএব, জনাবের নিকট আকুল আবেদন এই যে, আমার উক্ত অবস্থার কথা বিবেচনা করে আমাকে আপনার বিদ্যালয়ে ভর্তির অনুমতি দিয়ে  বাধিত করবেন।

নিবেদক

আপনার একান্ত বাধ্যগত

শহিদুল ইসলাম লিটন

রাজশাহী কুলাউড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়

শ্রেনি: ৯ম

রোল নং: ০৮

দরখাস্ত লেখার নিয়ম(নমুনা)

দরখাস্ত লেখার নিয়ম

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.